ঘরে থেকে পরীক্ষা দেবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

0
137
প্রতিকী

ঘরে থেকে পরীক্ষা দেবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দীর্ঘ ছুটিতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটছে। এ অবস্থায় পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে ঘরে থেকে পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে শিক্ষা অধিদফতর এমন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা।

করোনাভাইরাসের সংক্রামণের ভয়ে তারা শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যেতে রাজি হচ্ছেন না। অনেকেই লিখিত ও মৌখিকভাবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঠদানের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজ নেবেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) পাঠদানের আলোকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য প্রশ্নপত্র দেয়া হবে। ছাত্রছাত্রীরা খাতায় উত্তর লিখে রাখবেন। শিক্ষকরা খাতা সংগ্রহ করে তা মূল্যায়ন করবেন।

যদিও এ উদ্যোগে শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসমাজের সভাপতি আনিছুর রহমান এ বিষয়ে জানিয়েছেন, দেশের অনেক শিক্ষক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থীও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

শিক্ষকরা এ অবস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নেয়ার কাজে আগ্রহী হচ্ছেন না। টেলিফোনে অনেক শিক্ষক এ বিষয়ে মৌখিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন।

এছাড়া শিক্ষকেরা সব শিক্ষার্থীর বাড়িও চেনেন না। তারা কিভাবে সবার বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নেয়ার মতো, এত বড় একটি কাজ সমাধান করবেন?

কাজেই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার, এমনটাই দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দেশের অনেক শিক্ষকরা টেলিফোনে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের এই মহা দুর্যোগের সময়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ।

আবার অনেক শিক্ষক বলছেন, উদ্যোগটি ভালো। এতে করে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ফিরে আসার পাশাপাশি, মানসিকভাবে চাঙ্গা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফসিউল্লাহ এ বিষয়ে জানান, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবত শ্রেণি কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাদের বিকল্প প্রক্রিয়ায় পাঠদান করা হচ্ছে। আমরা এখন সেই পাঠদানের ওপর তাদের মূল্যায়ন করতে চাই। তাই এই বিকল্প উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মার্চের শেষ দিক (২৬ মার্চ) থেকে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) পাঠদান শুরু হয়।

এরপর বেতারের মাধ্যমে পাঠদান প্রক্রিয়া শুরু করতে এগিয়ে আসে ইউনেস্কো। সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে কাজ চলছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল ফোনে হটলাইনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের পরামর্শ সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর-৩৩৩৬ নম্বরে ফোন করে ভালোমানের শিক্ষকদের কাছে থেকে শ্রেণিপাঠ ও পরামর্শ নিতে পারবে। সেবাটিতে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত বিনা খরচে কথা বলা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উদ্যোগটি সফল হলে তা কোচিং সেন্টারের বিকল্প হবে বলে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সম্মিলিত উদ্যোগে এ কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেছেন, মোবাইলের মাধ্যমে অন্তত ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাছে শিক্ষা পরামর্শ ও শ্রেণিপাঠ পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ কারণেই এই হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে