গাজীপুরে ৪ খুন, ধর্ষণ ও চুরির ঘটনায় বেরিয়ে এল নতুন তথ্য

0
162
ছবি: ইন্টারনেট

গাজীপুরে ৪ খুন, ধর্ষণ ও চুরির ঘটনায় বেরিয়ে এল নতুন তথ্য

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামের একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা মামলায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় র‌্যাব ১ ‘মাস্টার মাইন্ড’ কাজিম উদ্দিন (৫৫) সহ আরও ৫ জনকে আটক করেছে। এর আগে ২৭ এপ্রিল, পিবিআই এ ঘটনায় জড়িত থাকায় কিশোর পারভেজকে আটক করে। গ্রেফতারের পর আটক পারভেজ গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিফুল ইসলামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ম্যাজিস্ট্রেট কে দেয়া জবানবন্দিতে পারভেজ অন্য কারো যুক্ত হওয়ার কথা না জানালেও ঘটনার তদন্তে নেমে র‍্যাব সদস্যরা এ ঘটনায় আরও ৫ সদস্যের জড়িত থাকার কথা নিশ্চিত হন।

র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা গাজীপুর শ্রীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হত্যার আলামত সংগ্রহ করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকি ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

আজ বিকালে এক অনলাইন ব্রিফ্রিংয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ডাকাতি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় তারা মা ও দুই মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই ৫ জনকে আটক করা হয়েছে’।

এসময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও রক্ত মাখা পোশাক উদ্বার করা হয়েছে। এছাড়া গত ২৭ এপ্রিল, সোমবার পিবিআই এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য সদস্য পারভেজকে আটক করে। আটকের পর ওই কিশোরের বাড়ী থেকে তার রক্তমাখা গেঞ্জি নিহতদের দুইটি মোবাইল ফোন, তিনটি স্বর্ণের চেইন, আংটি ও কানের দুল উদ্ধার করা হয়। ঘাতক পারভেজ ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নীলিমা নামের সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ছিলেন। বয়সের কারণে গত ২২ শে এপ্রিল থেকে সে জামিনে ছিল।

এ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার আবদার গ্রামের কাজিম উদ্দিন, বশির, সমির, হেলাল, হানিফ ও আলামিন। এদের মধ্যে বশির ও সমির এ ঘটনার ‘মাস্টার মাইন্ড’ কাজিম উদ্দিনের ভাতিজা। তাদের সবার বাড়ি শ্রীপুরে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই নেশাগ্রস্ত ও জুয়াড়ি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজল ও এ হত্যার মাস্টার মাইন্ড কাজিম উদ্দিনের বাড়ি শ্রীপুরের জেনাবাজার এলাকার আবদার গ্রামের আব্দুল আউয়াল কলেজের পাশে। কাজলের বিদেশে থাকার সুবাদে বিভিন্ন প্রয়োজনে তার স্ত্রী—ন্তানদের সাথে কাজিম ও তার দুই ছেলে পারভেজ ও সজীবের যোগাযোগ ছিল। কাজিম ও তার ছেলেরা নিয়মিত কাজলের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ইতিপূর্বে পারভেজ কয়েকবার কাজলের দুই মেয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

কাজিম উদ্দিনের পুরো পরিবার মিলে প্রবাসী কাজলের বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে। এর আগেও কাজিম উদ্দিনের ছেলে পারভেজ কাজলের বাড়িতে চুরি করেছেন। ধরা পড়ার পর স্থানীয় মাতব্বররা বিচার-সালিশ করে মিমাংসা করে দেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ শে এপ্রিল মধ্যরাতে দুইতলা ভবন বেয়ে উঠে ২-৩ জন বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা পেছনের দরজা খুলে দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে ৭-৮ জন ঘরে ঢুকে। তারা নগদ টাকা ও সোনা গয়না চুরির সময় কাজলের বড় মেয়ে নুরা (১৪) ও ছোট মেয়ে হাওরিন (১১) টের পেয়ে যায়। এরপর কয়েকজন মিলে দুই মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। শব্দ পেয়ে তাদের মা ফাতেমা আক্তার (৪০) ছুটে এলে তাকেও আঘাত করে। এরপর ধর্ষণের পর বটি দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়।

ঘাতকদের হাত থেকে কাজলের ৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিলও রক্ষা পায়নি। ঘাতকেরা সবাইকে বটি দিয়ে গলাকেটে ও শরীরে উপর্যপুরি আঘাত করে হত্যা করে। আধাঘণ্টার মধ্যে সবাইকে হত্যা করে পেছনের দরজা দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। এ ঘটনার পর কোন কোনও অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।

হত্যা, ধর্ষণ ও চুরির ঘটনায় কাজিম উদ্দিন তার মেয়ের জামাইসহ সহ পুরো পরিবার জড়িত ছিল। হত্যার পর লুট করে নেয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না তারা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। এরপর কাজিম উদ্দিনের মেয়ে স্থানীয় একটি সোনার দোকানে চুরি করা সোনার আংটি গলিয়ে নতুন করে তৈরির জন্য অর্ডার দেন।

সূত্র আরও জানায়, ‘র‌্যাব-১ সদস্যরা আজ দুপুর ১২ টার দিকে চুরি হওয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না, রক্তমাখা গেঞ্জি, লুঙ্গি ও জিন্স প্যান্টসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করে। ঘাতক পরিবারটির সবাই চুরি, মাদক সেবন ও জুয়া খেলার সাথে জড়িত ছিল’।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে