গণশুনানি: ওয়াসা দায়ী দূষিত পানির জন্য।

0
156

OURBANGLANEWS DESK।

রাজধানীতে আয়োজিত এক গণশুনানিতে বক্তারা ওয়াসাকে দায়ী করেছেন দূষিত পানির জন্য

এবং আহ্বান জানিয়েছেন সমস্যাটি সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার।

সেই সাথে তারা নিন্দা জানিয়েছেন খাবার পানির বাণিজ্যিকীকরণের।

তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা মদদ দিচ্ছে এ কাজে।

৭ মে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয় ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের ‘নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক আয়োজনে।

ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথা বলেন

বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ওয়াসার দূষিত পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা।

রাজধানীর পানি সরবরাহ নিয়ে সরকারের ‘মিথ্যা’ বিবরণের প্রতিবাদ জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন,

“উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছে জমা দেয়া বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওয়াসা দাবি করেছে যে ঢাকার ৯৮ শতাংশ মানুষ তাদের সরবরাহ করা নিরাপদ পানি পান করেন।

কিন্তু এমনকি ওয়াসার সরবরাহ করা সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানিও পান করার আগে ফুটিয়ে নিতে হয়।

তাহলে একে পানের জন্য কীভাবে নিরাপদ বলা যায়?”

আরও উল্লেখ করেন তিনি, নাগরিকদের ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে দূষিত পানি পানের ফলে অসুখের কারণে।

আনু মুহাম্মদের অভিযোগ, ওয়াসা পানি দূষণমুক্ত করার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে তা বাণিজ্যিকীকরণে।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা বলেন, নিরাপদ খাবার পানির অভাব শুধু ঢাকার সমস্যা নয় বরং এতে আক্রান্ত পুরো দেশ।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ডা. লেলিন চৌধুরী জানান, রাজধানীর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত পানি সরবরাহ করা হয় জুরাইনে। তিনি উল্লেখ করেন এ সমস্যা সমাধানে জনসম্পৃক্ততা দরকার।

সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেন,

জুরাইন এলাকায় খাবার পানির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করছে এডিবি,

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থাগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প।

ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন,

‘বর্তমানে ওয়াসার সরবরাহ করা পানির অবস্থা এত খারাপ যে ফুটানোর পরও তা পানের অযোগ্য থেকে যায়।’

তিনি ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জুরাইনে সরবরাহ করা পানির শরবত খাওয়ানোর চেষ্টার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন,

‘তারপর থেকে আরও খারাপ হয়েছে ওয়াসার পানির মান।’

গণশুনানিতে অনেক বাসিন্দা জানান ওয়াসার অনিরাপদ পানি নিয়ে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা।