খুনের রহস্য বেরিয়ে এল মুঠোফোনে।

0
158

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

পুলিশ জানিয়েছে পরকীয়ার জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হত্যা করা হয়েছে জুয়েল মিয়া (২৬) নামের এক যুবককে।

এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে হারুন মিয়া (৩০) ও আসমা খাতুন (২৪) নামের এক দম্পতিকে।

কবীর হোসেন নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে জুয়েলের মুঠোফোনের তালিকা ধরে তদন্ত করে।

বুধবার ১০ এপ্রিল সকালে মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার হারুন ও আসমা পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে। পলাতক এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরও পাঁচজন।

বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপজেলার চাপরতলা গ্রামের হারুন মিয়া বিভিন্ন কসমেটিকস চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিক্রি করেন ফেরি করে।

হারুনের স্ত্রী আসমা বাড়িতে একাই থাকতেন। ডেকোরেটর কর্মী জুয়েল মিয়ার সঙ্গে আসমার পরিচয় হয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে।

তাঁদের দুজনের মধ্যে সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর জুয়েল ধীরে ধীরে যাওয়া–আসা শুরু করেন আসমার বাড়িতে।

হারুন বিষয়টি জানতে পেরে সতর্ক করে দেন তাঁদের দুজনকে। হারুন সপ্তাহ দুয়েক আগে আসমার চুল কেটে দেন তাতেও কাজ না হলে। সঙ্গে তিনি পরিকল্পনা করেন জুয়েলকে হত্যার।

আরও বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা, হারুন পরিকল্পনামাফিক জুয়েলকে ফোন করিয়ে ডেকে আনেন স্ত্রী আসমাকে দিয়ে।

হারুন জুয়েলকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন রাত জুয়েল ১০টার দিকে এলে। এরপর তিনি জুয়েলের হাত-পা শার্ট দিয়ে বেঁধে ফেলেন।

পরে হারুন জুয়েলকে হত্যা করেন অন্য সহায়তাকারীদের সাহায্যে গলায় গামছা পেঁচিয়ে।

পরে অন্য সহায়তাকারীরা জুয়েলের মৃত্যু নিশ্চিত করেন ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত করে। শেষে গ্রামের একটি ডোবায় লাশটি ফেলে দেন তাঁরা।

পুলিশ জুয়েলের লাশ উদ্ধার করে হত্যার পাঁচ দিন পর। তদন্ত শুরু হয় নিহত ব্যক্তির চাচা আবদুল হক মামলা দায়ের করলে।

এরপর গত সোমবার হারুন কে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা এলাকা থেকে ও পরদিন মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয় আসমাকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে