ক্রাইস্টচার্চ হামলায় রুবেলের অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরা।

0
310

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

সবুজে ঘেরা ছবির মতো ছোট্ট নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহর। শহরটি অধিবাসী বেশি নয়। সাজানো-গোছানো বাড়ি-ঘর আর ঝকঝকে সড়কের শহরটাকে অপরাধ ঘটে না বললেই চলে।

এই শান্তিপূর্ণ শহরটির মসজিদে শুক্রবার অর্তকিত হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। বন্দুকধারীদের দুই দফা হামলায় মৃতের সংখ্যা দারিয়েছে পঞ্চাশে। যা বেড়েই চলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায়, আহতদের অনেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে, পানি চেয়ে মিনতি করেও বাঁচতে পারেননি। সৌভাগ্যক্রমে রুবেল নামে এক বাংলাদেশি বেঁচে যান এই ঘটনায়। আল নুর মসজিদের ভেতরে আহত অবস্থায় ছটফট করছিলেন তিনি।

তখন মো‌: দিদার নামে অন্য এক বাংলাদেশি মসজিদের ভেতরে এসেছিলেন তাঁর ভাইয়ের খোঁজে। গুলিবিদ্ধ রুবেল তার কাছে পানি চাইলে দিদার পানি পান করান। আহত রুবেলকে উদ্ধার করে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হয়। বাংলাদেশ সময়ে বিকালবেলায় তাঁর অস্ত্রোপচার হয়।

দিদাদের বন্ধু নিউজিল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশী এহসানুল বাশার দিদারের কাছে শোনা সেই রোমহর্ষক ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘আরও অনেকের মতো আমার বন্ধু দিদারকেও হয়তো আজ হারাতে হতো।

কিন্তু তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আল নুর মসজিদে ঢোকার সময়ই গুলির শব্দ শুনতে পান দিদার। গুলির শব্দ কানে আসতেই মসজিদের মূল ভবনের পাশের দরজা দিয়ে বাইরে চলে আসেন দিদার।

বাইরে এসে সোজা চলে যান মসজিদের গাড়ি রাখার জায়গায়। বিরামহীন গুলির শব্দে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির নিচে লুকিয়ে পড়েন দিদার। কিছু সময় পর গুলির শব্দ থেমে গেলে দিদার মসজিদের ভেতরে যান ভাই মিনারকে খুঁজতে। মিনারও পালিয়ে বের হয়েছিলেন।

পরে দিদার মসজিদের ভেতরে ঢোকার পর দেখেন নারকীয় দৃশ্য। আল নূর মসজিদের ভেতরে রক্তাক্ত অসংখ্য নিস্তেজ দেহ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল। গুলিবিদ্ধ অনেকে ছটফট করছিলেন।

কেউ আবার এক ফোঁটা পানির জন্য কাকুতি–মিনতি করছিলেন। দিদারকে দেখে রুবেল নামের গুলিবিদ্ধ এক বাংলাদেশি পানি চেয়েছিলেন। তাঁকে পানি দিয়ে দিদার বাইরে চলে যান।

ঠিক এই সময় বন্দুকধারী আবারও বন্দুকে গুলি ভরে মসজিদের ভেতরে আসে। আহত যাঁরা ছিলেন, বেছে বেছে তাঁদের দিকে আবারও গুলি চালায় বন্দুকধারী। এই দফায় রুবেল মৃত হওয়ার ভান করে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে