কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর মূল্য ২০ লাখ।

0
190

OURBANGLANEWS DESK।

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু রাজকুমারীর মূল্য।

জামালপুরের পারিবারিক সহকারী জজ আদালতের বিচারক ফারহানা আক্তার আদেশ দিয়েছেন শিশুটির নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে ব্যাংক রশিদ জমা দেওয়ার।

শর্ত মেনে নেওয়ায় আদালত সুমন দম্পতিকে ৪৫ দিনের জন্য অস্থায়ী অভিভাবক মনোনীত করেছেন।

মামলার রায় অনুযায়ী, তিনিই রাজকুমারীর দায়িত্ব নিতে পারবেন যিনি এই অর্থ ব্যাংকে জমা রাখতে পারবেন।

এখন বকশীগঞ্জের ভ্যান চালক সুমন দম্পতির জিম্মায় রয়েছে শিশুটি।

আদালত আদেশ দিয়েছেন শিশুটিকে আরও ৪৫ দিনের জন্য সুমন দম্পতির জিম্মায়ই রাখার।

সুমন দম্পতিসহ আরও একটি পরিবার আদালতে দ্বারস্থ হয়েছেন শিশুটির দায়িত্ব নিতে।

বকশীগঞ্জ পৌর শহরের শ্মশান ঘাটে গত ২৯ মার্চ কে বা কারা নবজাতক কন্যা শিশুটিকে রেখে যায়।

ওই এলাকার মদকপাড়ার আছর আলীর স্ত্রী সন্ধি বেগম কান্নাকাটির শব্দ শুনে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

বকশীগঞ্জ থানার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কুড়িয়ে পাওয়া ফুটফুটে নবজাতক শিশুটির নাম রাখা হয় রাজকুমারী।

এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ভ্যানচালক সুমনসহ একাধিক সামর্থ্যবান পরিবার সংবাদ প্রকাশের পর রাজকুমারীর দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

সর্বশেষ জামালপুর পারিবারিক আদালতে রাজকুমারীকে পেতে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপা ও পৌর শহরের কামারপট্টি মোড়ের ভ্যান চালক সুমন মিয়া যান।

মামলায় বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় ব্যাংকার সামিউল হকের স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন রিপার পক্ষে সাক্ষ্য দেন।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জুমান, পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর ও মহিলা কাউন্সিলর রহিমা সুমন মিয়ার পক্ষে সাক্ষ্য দেন।

২০ মে বিজ্ঞ সহকারী জজ ফারহানা আক্তার রাজকুমারীর মামলার রায় দেন।

রায়ে সিটি ব্যাংকে রাজকুমারীর নামে ২০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দেয়াসহ ৩টি বিশেষ শর্ত দেয়া হয়।

ব্যাংকে টাকা জমা দেয়াসহ যাবতীয় কাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দেয়া হয় ৪৫ দিনের।

জামালপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ

ও অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন ফারহানা ইয়াসমিনের আইনজীবী।

সাবেক পিপি মাহফুজুর রহমান মন্টু ও অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান সুমন দম্পতির পক্ষে ছিলেন।