কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক দেবেশ রায় আর নেই

0
158

কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক দেবেশ রায় আর নেই, সাহিত্যজগতে শোকের ছায়া

কিংবদন্তি সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক দেবেশ রায় আর নেই। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে বাগুইআটির একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে তার মৃত্যু হয়।

বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত বুধবার রাতে তিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাগুইআটির তেঘরিয়া অঞ্চলের ঊমা নার্সিংহোমে ভর্তি হন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখেন। এরপর রাত ১০ টা ৫০ মিনিট নাগাদ তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তার মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিশিষ্ট এই সাহিত্যিকের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের পাবনা জেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম নেয়া এই সাহিত্যিকের বেড়ে ওঠা উত্তরবঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই জড়িয়ে পড়েন প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে। আর রাজনীতির সূত্র ধরে পুরো উত্তরবঙ্গ চষে ফেলেন। রাজনীতির কারণে শেখেন রাজবংশী ভাষা। কলকাতা শহরে ট্রেড ইউনিয়ন করেছেন, এ কারণে শ্রমিকসমাজের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তিনি কলকাতা শহরের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৭৯ সাল থেকে এক দশক তিনি পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তার প্রথম উপন্যাস যযাতি। আর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে আছে: মানুষ খুন করে কেন (১৯৭৬), মফস্বলী বৃত্তান্ত (১৯৮০), সময় অসময়ের বৃত্তান্ত (১৯৯৩), তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত (১৯৮৮), লগন গান্ধার (১৯৯৫) ইত্যাদি।

তার প্রথম গল্পের বই বেরিয়েছিল, আহ্নিক গতি ও মাঝখানের দরজা, দুপুর, পা, কলকাতা ও গোপাল, পশ্চাৎভূমি, ইচ্ছামতী, নিরস্ত্রীকরণ কেন, ও উদ্বাস্তু এ আটটি গল্প নিয়ে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস তিস্তাপারের বৃত্তান্তত। এই উপন্যাসে উঠে আসে উত্তরবঙ্গের জীবনের বহতা ধরা। আর এই উপন্যাসের জন্যই তিনি ১৯৯০ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান সাহিত্য অ্যাকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হন। বাংলা সাহিত্যে তিনি একজন ছকভাঙা আধুনিক ঔপন্যাসিক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে