করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও তিন মাসে ২০৬ ধর্ষণ

0
268

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও তিন মাসে ২০৬ ধর্ষণ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও থেমে নেই শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্যাতন। চলতি বছরের গত তিন মাসে (মার্চ, এপ্রিল ও মে) ৪৮০ জন শিশু ও নারী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তাদের মধ্যে ২১৩ জন শিশু ও ২৬৭ জন নারী। এর মধ্যে ১১৬ জন শিশু ও ৯০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ১৪ টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি এসব তথ্য জানিয়েছে।

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের জনগণও বিপাকে পড়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত কয়েক দফায় সাধারণ ছুটি দেয়। এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এর ফলে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে হতাশা ও অস্থিরতাবোধ করায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহিংস আচরণের ঘটনা ঘটে।

এর ফলে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কন্যাশিশু ও নারীর ওপর। অনেক কন্যাশিশু ও নারী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, বৈবাহিক ধর্ষণ, বিবাহ-বিচ্ছেদ ও নারী পাচারসহ নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।

করোনাভাইরাসের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় নারী আন্দোলন উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এসব পারিবারিক সহিংসতার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হলেও বিভিন্ন সূত্রে নারী আন্দোলন কর্মীদের গোচরীভূত হয়। বিভিন্ন সংগঠনের তাৎক্ষণিক সমীক্ষার ফলাফলেও তা দেখা গেছে।

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যেসব সহিংসতার ঘটনা অধিকতর সংবেদনশীল, সেসব ঘটনাগুলোই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সহিংসতার শিকার কন্যাশিশু ও নারীদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের কাছ থেকে সহায়তা প্রাপ্তির সুযোগও সীমিত হওয়ায় এবং গণমাধ্যমকর্মীদেরও সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা মনে করি, প্রকৃত তথ্য গণমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে না।

মহিলা পরিষদ তাদের তিন মাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, (মার্চ, এপ্রিল ও মে) তিন মাসের খবর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে ৪৮০ জন। এর মধ্যে নারী ২৬৭ জন, শিশু ২১৩ জন। ধর্ষণের ঘটনা ২০৬ টি। ৯০ নারী ও ১১৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত মার্চ মাসেই সহিংসতার ঘটনা ২৪৩টি। তার মধ্যে ১৩৯ নারী ও ১০৪ শিশু রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ৮১ জন নারী-শিশু। তাদের মধ্যে নারী ৩৮ জন ও শিশু ৪৩ জন’।

এপ্রিল মাসে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১২২ টি। এর মধ্যে নারী ৫৮ জন ও ৬৪ জন শিশু। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৬৮ টি। তাদের মধ্যে ২৩ জন নারী ও ৪৫ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

গত মে মাসে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১১৫ টি। এর মধ্যে ৭০ জন নারী ও ৪৫ জন শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৭ টি ধর্ষণের ঘটনায় ২৯ জন নারী ও ২৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে