এসিড দগ্ধদের জন্য শাহরুখ খানের “মীর ফাউন্ডেশন”

0
340

OURBANGLANEWS DESK।

শাহরুখ খান এ সময়ে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। শাহরুখ খানের রয়েছে ‘মীর ফাউন্ডেশন’ নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান।

এর কার্যক্রম ২০১৭ সালে শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে অ্যাসিড হামলার শিকার এবং যেকোনো কারণে পুড়ে যাওয়া নারীদের নিয়ে।

সেসব আহত নারীদের দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, কারিগরি শিক্ষা প্রদান, পুনর্বাসন ও উদ্দীপ্ত করার জন্য নানা পরামর্শ।

এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অ্যাসিড আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং স্বাবলম্বী করে তাঁদের জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা।

জানা যায়, মীর ফাউন্ডেশন পরিচালিত আবাসনে থাকা প্রত্যেক অ্যাসিড আক্রান্ত মেয়েকে ‘নিজের বোন’ বলে মনে করেন শাহরুখ খান। তাঁদের সঙ্গে আচরণ করেন বড় ভাইয়ের মতো।

বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ, শাহরুখ খান সারা বিকেল কাটালেন অ্যাসিড আক্রান্ত মেয়েদের সঙ্গে। আগে থেকেই নাকি এই প্রোগ্রাম স্থির করেছিলেন তিনি।

থেকেছেন এই লড়াকু বোনদের কাছে দেখেছেন, কথা বলেছেন তাঁদের সঙ্গে, তুলেছেন ছবি, পরামর্শ দিয়েছেন নানা বিষয়ে।

এরপর এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন সবার উদ্দেশে তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে। লিখেছেন, ‘সবাইকে অনুরোধ, ঈশ্বরের কাছে আমার এই বোনদের জন্য প্রার্থনা করুন।’

শাহরুখ খান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে দেওয়া বক্তৃতায় বলেন, ‘আমি আমৃত্যু অ্যাসিড আক্রান্তদের পাশে থাকব।

অ্যাসিড আক্রান্তদের সাহায্য করব। শুধু তা-ই নয়, আমার মৃত্যুর পর মেয়ে সুহানা যাতে ওই দায়িত্ব পালন করে, সে ব্যবস্থাও করে যাব।’

শাহরুখ খান নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিয়েছেন ভারতে কয়েকটি ক্যানসার নিরাময় কেন্দ্রে। তবে এরপর ঘোষণা দেন সমাজের অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের জন্য কাজ করার।

এ কাজের জন্য একটি চুক্তি করেছে শাহরুখ খানের দাতব্য প্রতিষ্ঠান মীর ফাউন্ডেশন ও ভোগ ম্যাগাজিন। অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দিচ্ছে যৌথভাবে এই দুটি প্রতিষ্ঠান।

শাহরুখ তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে লিখেছেন, ‘সৌন্দর্য কেবল গায়ের চামড়ায় থাকে না।

মানুষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য মূল শক্তি। সেই শক্তিকে আমাদের তুলে ধরতে হবে।’

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান জানিয়েছেন, তাঁকে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে বলিউডের ‘কিং খান’ হওয়ার আগে।

দারিদ্র্যের যন্ত্রণা তাই তিনি অনুভব করতে পারেন ভালোই। এ জন্য চেষ্টা করেন সব সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা করার।

শাহরুখ খানকে ‘ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মানবসেবায় অবদানের জন্য বিশ্ব অর্থনীতি ফোরাম সম্মেলনে।

গত বছর ২২ জানুয়ারি এই পুরস্কার পাওয়ার পর শাহরুখ টুইটারে লিখেছেন, ‘২৪তম ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত।’

শাহরুখ খান স্ত্রী গৌরী খানের সঙ্গে তাঁর একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন গত বুধবার বিশ্ব থিয়েটার দিবস উপলক্ষে।

তিনি সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘গৌরীর সঙ্গে থাকা মানে মঞ্চে থাকা। চারপাশে এত আলো যে আমি আর কিছুই দেখতে পাই না।

সব সময় অজানাকে জানার ইচ্ছা আর তাঁর চারপাশে ঘিরে রয়েছে শুধু মজা আর আনন্দ। এমন পরিবেশে আপনি তো অভিনেতা হয়ে উঠবেনই।’

১৯৯১ সালে বিয়ে হয়েছে শাহরুখ খান আর গৌরীর। তিন ছেলেমেয়ে তাঁদের —আরিয়ান (২১) বড় ছেলে, সুহানা (১৮) মেজ মেয়ে এবং আব্রাম (৫) ছোট ছেলে।

পড়াশোনার প্রয়োজনে আরিয়ান ও সুহানা বিদেশে আছেন। বাবা-মায়ের কাছে মুম্বাইয়ে থাকে আব্রাম। শুধু একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক নন গৌরী খান, ইন্টেরিয়র ডেকোরেটরও তিনি।

তিনি সাজিয়েছেন বলিউডের প্রথম সারির অনেক তারকার বাড়ি। আলিয়া ভাট, বরুণ ধাওয়ান, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, রণবীর কাপুর, করণ জোহর আছেন সেই তালিকায়।

মুম্বাইয়ের দুটি রেস্তোরাঁ অর্থ এবং স্যাঞ্চোসের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছেন তিনিই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে