এফ আর টাওয়ারে এখনও হয়ত প্রতিধ্বনি হচ্ছে, “বাবা আমাকে বাঁচাও,আমি বাঁচতে চাই।”

0
238

OURBANGLANEWS DESK।

রাজধানী ঢাকার বনানীতে এফ আর টাওয়ারের আগুনে পুড়ে মারা যায় তানজানিয়া মৌলি মিথি।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় তাঁর গ্রামের বাড়ি সান্তাহার পৌর শহরের বশিপুর গ্রামে। স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা আর্তনাদ চলছিল মিথিদের বাড়িতে শুক্রবার সকাল থেকে।

মিথির মা মূর্ছা যাচ্ছিলেন বারবার। ঢাকায় মেয়ের লাশ নিতে গিয়েছিলেন বাবা মাসুদুর রহমান। মিথির লাশ বহনকারী গাড়িটি বেলা ১১টায় বশিপুর গ্রামে এলে, মাতম শুরু হয় সেখানে।

আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া তানজিলা মৌলি মিথি (২৪) একমাত্র সন্তান ছিলেন আইনজীবী মাসুদুর রহমানের। স্বামীকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসায় মিথি ভাড়া থাকতেন।

মিথির কথা ছিল আগামী ২ এপ্রিল বাবা-মায়ের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করবে সান্তাহারে এসে। কিন্তু আর পূরণ হলো না তাঁর সেই ইচ্ছাটা।

মিথির দেহকে অঙ্গার করে দিয়েছে এফআর টাওয়ারে লাগা ভয়াবহ আগুন। সঙ্গে তাঁর স্বপ্ন ও পুড়িয়েছে।

সালাউদ্দিন সরদার মিথির চাচা বলেন, ‘ঢাকায় একটি ট্যুরিজম কোম্পানিতে চাকরি করতেন মিথি। এভাবে মিথির চলে যাওয়াটা কেউ মেনে নিতে পারছেন না।’

মিথি তাঁর বাবা ও স্বামীকে, আগুনে আটকা পড়ার পর মোবাইলে বলেছিল, ‘আমাদের অফিসে আগুন লেগেছে, আমি আগুনে আটকা পড়ে আছি। আমাকে বাঁচাও, আমি বাঁচতে চাই।’

বাবা মাসুদুর রহমান দিশেহারা হয়ে মেয়েকে বাঁচাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বগুড়ার সান্তাহার থেকে।

ঢাকায় আসার পর তিনি মেয়ের আগুনে পোড়া নিথর দেহ দেখেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে। বাবা মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন ভোটার আইডি কার্ড ও হাতের আংটি দেখে।

মিথির প্রথম জানানা ঢাকার মিরপুরে অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ার সান্তাহারে শুক্রবার বাদ জুমা দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।

মাত্র আট মাস আগে বিয়ে হয় মিথির। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে চাকরি করেন স্বামী রায়হানুল ইসলাম রিমন।

ট্যুরিস্ট অ্যান্ড হেরিটেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন মিথি নিজেও। মিথির অফিস ছিল এফআর টাওয়ারের দশম তলায়।

চাকরির পাশাপাশি তানজিলা মৌলি মিথি ছিলেন ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ৫১তম ব্যাচের বিবিএর শিক্ষার্থী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে