এক মিনিটের ঝড়ে, রাজধানীতে ৪ জন নিহত।

0
305

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

রোববার রাজধানীর অনেকটাই লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে কালবৈশাখীর আঘাতে। এক মিনিটের বেশি স্থায়ি ছিল

ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বেগে আসা কালবৈশাখী। তবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে ঘণ্টাখানেক ধরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এক মিনিটের বেশি স্থায়ি ছিল রোববার সন্ধ্যায় ৬টা ২২ মিনিটে শুরু হওয়া কালবৈশাখী।

দেশের মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া একটি বজ্রমেঘ বিস্তৃত হয়। এতে ওই কালবৈশাখী আঘাত হানে দেশের অর্ধেকের বেশি এলাকায়।

এর সঙ্গে হয় বজ্রপাত ও বৃষ্টিও। সবচেয়ে বেশি ঝড়বৃষ্টির দাপট ছিল রাজধানীতে সারা দেশের মধ্যে। এই ঝড়বৃষ্টি থাকতে পারে সোমবার ও আগামী মঙ্গলবারও।

খবর পাওয়া গেছে সারা দেশে ঝড় ও বজ্রপাতের কবলে পড়ে ছয়জন মারা যাওয়ার। চা-দোকানি মো. হানিফ (৪৫) মারা গেছেন রাজধানীর পল্টনে ভবন থেকে খসে পড়া ইটের আঘাতে।

লিলি ডি কস্তা নামের একজন মণিপুরিপাড়া এলাকায় মারা গেছেন। তিনি চাপা পড়েন উপড়ে পড়া গাছের নিচে।

বাসায় ফেরার পথে কদমতলী থানার পাঁচ নম্বর পলাশপুরে রিকসা চালক হাসান মারা যান একটি ভবনের সীমানা দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে

ঘটনাস্থলেই। একজন নিহত হয়েছেন শেওড়াপাড়ায় ভবনের ইট ধসে। তবে জানা যায়নি শেওড়াপাড়ায় নিহত ব্যক্তির পরিচয়।

এ ছাড়া মারা গেছেন মৌলভীবাজারে দুই বোন ও হবিগঞ্জে একজন।

অনেক স্থানে গাছপালা ভেঙে গেছে ঝড়ে, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে। শিলাবৃষ্টিও পড়েছে অনেক স্থানে।

রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে বহুতল ভবন প্রচণ্ড বাতাসে কেঁপে কেঁপে ওঠে। নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে

রাজধানীর হাতিরঝিল, কামরাঙ্গীরচরের সোনামুড়া ঘাট, সোনারগাঁও এলাকায়। তবে খবর পাওয়া যায়নি হতাহতের।

খালিদ মাহমুদ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায় গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ধসে পড়ায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তবে রাতেই বিদ্যুৎ-সংযোগ সচল করা হয়েছে অনেক এলাকায়। চেষ্টা চলছে অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ চালু করার।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গাছ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে মোট রাজধানীর ২৫টি স্থানে।

সড়কের পাশের বিলবোর্ড উড়ে গেছে শাহবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন।

গাড়ির ওপর গাছ উপড়ে পড়ে রাজধানীর হেয়ার রোডসহ বেশ কিছু স্থানে। অনেক স্থানে সড়কে গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল।

পরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয় ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় গাছ সরানোর পর।

বজলুর রশীদ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বলেন, বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে বয়ে আসা শুষ্ক বায়ুর সংঘর্ষের ফলে।

আরও দু-তিন দিন চলতে পারে এ ধরনের আবহাওয়া। মাসের বাকি সময় জুড়ে সম্ভাবনা রয়েছে থেমে থেমে ঝড়বৃষ্টির।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, সোমবার ও মঙ্গলবার কালবৈশাখীর সঙ্গে দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দেশের অনেক এলাকায়।

এতে কিছুটা কমতে পারে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ স্থানের দিনের তাপমাত্রা। তবে সম্ভাবনা আছে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার।

ঝড়বৃষ্টি হতে পারে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ স্থানে ও অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে।

২ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে দেশের সব কটি নদীবন্দরকে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে