একটি প্রজন্ম পুরোটা হারিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে রোহিঙ্গারা।

0
215

OURBANGLANEWS DESK।

হেলে থরনিং স্মিড ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন

রোহিঙ্গাদের পুরো একটি প্রজন্ম হারিয়ে যেতে পারে সাধারণ শিক্ষার অভাবে।

হেলে থরনিং স্মিড কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির দ্বিতীয়বারের মতো পরিদর্শন করেন গত শনি ও রোববার।

এই সফরের বিষয়ে বুধবার জানানো হয় সেভ দ্য চিলড্রেন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে।

জানান হেলে থরনিং স্মিড, তিনি যখন প্রথম কক্সবাজারে যান ১৮ মাস আগে, তখন প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করছিল বাংলাদেশে।

তিনি শিশুদের সঙ্গে তখন এবং এখন দুই সময়ই কথা বলেন, যারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছিল মিয়ানমার থেকে অত্যাচারিত হয়ে।

বলেন হেলে থরনিং স্মিড, ‘শিশুর সংখ্যা এখন অনেক বাড়লেও আগের চেয়ে তারা ভালো আছে।

তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি আছে। এরপরও এখনো অনেক শিশু সাধারণ শিক্ষার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

শিক্ষাগ্রহণের ব্যবস্থায় শিশুদের এই অনুপস্থিতি জারি থাকলে রোহিঙ্গাদের একটি পুরো প্রজন্ম হারিয়ে যাবে বলে আমি শঙ্কিত।’

হেলে থরনিং স্মিড মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশি জনসাধারণ এবং সরকারের বদান্যতায়। মনে করেন তিনি, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীশিবিরে বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে সক্ষম হয়েছে এ দেশের মানুষের সহানুভূতির ফলেই।

কিন্তু প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসরতদের অর্ধেকই শিশু এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে তারাই।

এখনো অনেক শিশু সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমগুলোর আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে রোহিঙ্গা অভিবাসনের দেড় বছরেরও বেশি সময় হলেও।

রোহিঙ্গাদের দেখভাল করতে ত্রুটি রাখছে না আন্তর্জাতিক-স্থানীয় সব ধরনের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো।

তবে তিনি রোহিঙ্গাদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার ফলে তাদের রক্ষণাবেক্ষণে খুব বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি বাংলাদেশি জনসাধারণের সহযোগিতাও।

বলেন হেলে থরনিং স্মিডলে, ‘রোহিঙ্গা শিবিরে শরণার্থী রক্ষণাবেক্ষণে কর্মরত বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি সেভ দ্য চিলড্রেন।

ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সরবরাহ, নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

শিবিরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য আমরা শিশুশিক্ষা ও শিশু সুরক্ষার সেবা প্রদান করছি।

কিন্তু আমাদের নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশি মানুষের ওপর, বিশেষ করে কক্সবাজারের জনসাধারণের ওপর;

প্রায় দুই বছর আগে রোহিঙ্গা অভিবাসনের ফলে যাদের জীবন নাটকীয়ভাবে বদলে গিয়েছিল।’

মার্ক পিয়ের্সসহ হেলে থরনিং স্মিড দুই দিনের সফরে সেভ দ্য চিলড্রেনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর শিবিরে ঘুরে দেখেন সেভ দ্য চিলড্রেনের নানা কার্যক্রম।

টেম্পোরারি লার্নিং সেন্টার, জেনারেল ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার, হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন পোস্ট, চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস, চাইল্ড প্রোটেকশন কেস ম্যানেজমেন্ট অফিস এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি অফিস এর মধ্যে রয়েছে।

কক্সবাজার সফরের সময় হেলে থরনিং স্মিড পরিদর্শন করেন কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির। তিনি সাক্ষাৎ করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে