একই রাস্তায় তেঁতুলিয়া পরিবহনের চাপায় দেড় বছরে দুই মৃত্যু।

0
156

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

তাসনিম আলম তিশা। আদরের নাম ‘তিশা’। ২০১৭ সালে ১২ বছরের তিশা ছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের (মিরপুর ১০ নম্বরে) ছাত্রী ছিল সে।

২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর একটায় পরীক্ষা শেষ করে মা রিমা আক্তারের সাথে, ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল তিশা।

সড়কে দুটি বাসের প্রতিযোগিতা চলছিল। দুই চালক দ্রুত বাস চালাচ্ছিলেন একজন অন্যজনের আগে যাওয়ার জন্য।

রিকশা থেকে সেনপাড়ায় নেমে, রাস্তা পাড় হয়ে সড়ক বিভাজকে উঠতে যাওয়ার সময়। দানবের গতি নিয়ে একটি বাস চোখের পলকে থেঁতলে দিয়ে যায় তিশার শরীর।

কোনো উপায় ছিল না মা রিমা আক্তারের তাকিয়ে দেখা ছাড়া। সেদিন তিশার মায়ের আর্তনাদের শেষ ছিল না, কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)

শামীম সিকদারের কক্ষের সামনে নিষ্পাপ নিথর তিশার দেহ নিয়ে। তিশাকে সেদিনই গ্রামের বাড়ি, রংপুরে নিয়ে চলে যান।

আজ সোমবার সকালে, প্রায় দেড় বছরে পর বাসচাপায় আরেকটি মৃত্যু হয় একই সড়কে। ওই ঘটানাস্হলের এক কিলোমিটার দূরত্বে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে।

২৭ বছরের নূর ইসলাম শান্ত চালাচ্ছিলেন মোটরসাইকেল। ফাঁকা রাস্তায় ছিলোনা কোনো তাড়াহুড়ো।

কিন্তু বাস চালক ছিল অস্থির। মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে দ্রুত বাস নিয়ে যাওয়ার সময় নূর ইসলাম শান্তের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেন পেছন থেকে। সড়কে ছিটকে পড়ে নিথর হয়ে যায় শান্তর দেহ।

বছর দেড়েকের ব্যবধান ঘটনা দুটির। তিশা ও শান্তের মৃত্যু দুটি বাসের চাপায়। কিন্তু দুটি বাসের কোম্পানি এক, তেঁতুলিয়া পরিবহন।

বিক্ষুব্ধ জনতা তিশার মৃত্যুর পর বাসটি পুড়িয়ে দেয়। ধরা পড়ে চালক আবদুর রহিম। মামলা করেনি তিশার পরিবার।

মৃত্যুর কারণ সড়ক দুর্ঘটনা দেখিয়ে মামলা করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। কয়েক মাস কাফরুল থানার সামনে রাখা হয়েছিল পোড়া বাসটি।

রহিম ঘটনার দিন কয়েক পর জামিনে ছাড়া পেয়ে স্টিয়ারিংয়ে বসে যান আবারও। মালিক থানা থেকে পোড়া বাসটি ছাড়িয়ে করেন মেরামত।

এখন মোহাম্মদপুর থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত দিব্যি তেঁতুলিয়া পরিবহনের বাস চলাচল করছে।

তিশার পরিবার অন্যদিকে শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে। ঢাকা ছেড়ে রংপুরে বদলি করিয়ে নেন বাবা খোরশেদ আলম।

বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের চাকরি কিছুদিন পর ছেড়ে দিয়ে এখন বেকার জীবনযাপন করছেন। রংপুর ছেড়ে এখন বগুড়া শহরে বসবাস করছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে