উচ্চাভিলাষী কিশোরের আত্মহত্যা।

0
312

OURBANGLANEWS DESK।

বাংলাদেশে দিন দিন আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলছে।

এর পেছনের কারণ সামাজিক বিচারহীনতা, পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে এক শ্রেণির কিশোরের উচ্চাভিলাষ পূরণ না হওয়ার ‘রাগ’।

সন্তানকে সবসময় ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানো ও চাহিদার সীমানা জানান উচিত।

৭মে ঝিনাইদহ পৌরসভার কাঞ্চনপুর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বাদশা মিয়া দম্পতির ছেলে আহাদ হাসান আত্মহত্যা করেছে।

সদ্য এসএসজি পাশ করা আহাদ বাবার কাছে মোটরবাইক কেনার আবদার করেছিল।

সেই আবদার পূরণ না হওয়ায় এএসসির ফল ঘোষণার একদিন পর সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, আত্মহত্যার আগে সে ফেসবুকে নিজের এসএসসি পাশের খবর জানিয়েছিল।

সে পরদিন দুটি ঘুমের বড়ির ছবি দেয়। আত্মহত্যার দিন আহাদ লিখেন ‘লাস্ট পোস্ট। সবাই ভালো থেকো।

আব্বু-আম্ম খুব মিস করব তোমাদের।’।

আহাদের বন্ধু এবং স্কুলের শিক্ষকরা বলেছেন, খুব রাগী ছিল আহাদ।

বাবা-মায়ের ওপর রাগ করে নানা কাণ্ড ঘটাত। আহাদের শেষ দুটি স্ট্যাটাসে তার বন্ধুদের মন্তব্য লক্ষ্যণীয়। মোঃ মহিউদ্দিন টিপু লিখেছেন, ‘তুমি মরেছ ভালো হয়েছে।

তোমার মাথায় সমস্যা আছে। তার জন্য দায়ী তোমার বাবা-মা। তারা তোমাকে বেশি আদর দিয়ে নষ্ট করেছেন।

ভালো হয়েছে তুমি মরেছো। তোমার মতো আরো যারা পাগল আছে তারাও মরে যাক।’

২০০০০ টাকা দিয়ে কক্সবাজার ঘুরে এসেছ, আরেকটু বড় হলে বাইকও পেতে। ওসব বুঝ হয়নি।

আহাদের পরিচিতজনেরা লিখেছেন আরও ভয়ংকর কথা।

শিশির সরকার লিখেছেন, ‘নিজের দোষে কেউ সুইসাইড করলে তার প্রতি দুঃখজনক অনুভূতি না আনাই ভালো।

আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।’ আশরাফ ইভান প্রান্ত লিখেছেন, ‘একটা পোলা যে কিনা জীবনের কিছুই এখনো দেখেনাই, চাইর আঙুল বয়স যার; সে অলরেডি এক্সামের ছুটিতে বাপ থেকে ২০০০০ টাকা নিয়ে কক্সবাজার ঘুরে আসছে, এরপর বাইক না পেয়ে সুইসাইড করছে; এইটা তো পুরাই একটা জোক!’

তবে অনেকেই এত কম বয়সী একটি ছেলের আত্মহত্যায় শোক জানিয়েছেন।