আরও দুইটি সাবমেরিন ক্যাবল পাচ্ছে বাংলাদেশ। 

0
215

OURBANGLANEWS DESK ।

আরও দুইটি সাবমেরিন ক্যাবল পাচ্ছে বাংলাদেশ । 

২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ আরও দুইটি সাবমেরিন ক্যাবল পাচ্ছে। এর একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে সি-মি-উই-৬ নামের (দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশের মিলিত কনসোর্টিয়াম) সরকারি ক্যাবলটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে উদ্যোক্তারা ২০২১ সালের আগেই বেসরকারি ক্যাবলটি চালু করতে চান।

জানা গেছে, সরকার সাবমেরিন ক্যাবলের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

এর মধ্যেই একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের লাইসেন্সের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি উদ্যোগে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে ইতিমধ্যে সি-মি-উই-৬ কনসোর্টিয়ামের সাথে বাংলাদেশ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে বলেন,

‘২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে আমরা তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল বাণিজ্যিকভাবে চালুর পরিকল্পনা করেছি।

এর আগে বেসরকারি উদ্যোগে দেশে সাবমেরিন ক্যাবল চালু হয়ে যাবে’।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য লাইসেন্স দেবো বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কিন্তু কয়টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পাবে সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ, কে কোয়ালিফাই করবে সেটা একটা বড় প্রশ্ন’।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনই আমাদের কাছে ফিজিবল বলে মনে হয়েছে।

তারা কারিগরিভাবে কতটা সক্ষম, তাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে কিনা ইত্যাদি বিষয় দেখা হবে। লাইসেন্স দিলেই তো হবে না।

তারা টিকে থাকতে পারবে কিনা, সেটাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স পেয়েও যেতে পারে’।

মন্ত্রী জানান, ‘বেসরকারি উদ্যোগে যে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বাংলাদেশ পাবে সেটির ব্যবসা,

বাজার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়— সেজন্য টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ আমদানি বন্ধ করে দেয়া হবে।

সে সময় অন্তত দুইটি ব্যাকআপ সাবমেরিন ক্যাবল থাকবে। ফলে বেসরসারি উদ্যোগের সাবমেরিন ক্যাবল প্রথম থেকেই প্রায় ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করেত পারবে’।

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে এক হাজার ৪০০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকে ৮০০ জিবিপিএস আসছে, আর ভারত থেকে টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমে ৬০০ জিবিপিএস আসছে।

যদিও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা এক হাজার ৫০০ জিবিপিএস।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা ১০ হাজার জিবিপিএস। ক্যাবলের দুই প্রান্ত থেকে এই ব্যান্ডউইথ আসবে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের ল্যান্ডিং স্টেশনে সিঙ্গাপুর প্রান্ত থেকে ৫ হাজার এবং ফ্রান্স প্রান্ত থেকে ৫ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আসবে ।

স্থলভাগ কানেক্টিভিটিতে বাংলাদেশ

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো তৈরি করা কানেক্টিভিটিতে সামিল হতে চায় বাংলাদেশ। মূলত মহাসড়কের পাশে (এশিয়ান হাইওয়ে) ক্যাবল বসিয়ে কানেক্টিভিটি তৈরি করা হবে। প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়েতে স্বল্প খরচে কানেক্টিভিটিটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এই কানেক্টিভিটি সক্রিয় হবে ২০২৬ সালের দিকে। এটিতে বাংলাদেশও যুক্ত হচ্ছে।

আমাদের লক্ষ্য হলো— মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত কানেক্টিভিটি তৈরি করা’।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি সড়ক ‍ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। তিনি যেন মহাসড়ক তৈরির সময় ক্যাবল বসানো ব্যবস্থা রাখেন।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে বিভাগকে বলে দিয়েছি মহাসড়কের পাশে একটা করে ক্যাবল বসাতে।’

মন্ত্রী জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া হয়ে যে মহাসড়কটি মালয়েশিয়া চলে যাবে,

সেই মহাসড়কটির পাশে ক্যাবল বসিয়ে কানেক্টিভিটি তৈরি করা হবে। ফলে বাংলাদেশ এখান থেকেও বড় ধরনের সুবিধা পাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে