আযান ছাড়াই নামাজ পরছেন বহু মুসলিম!

0
377

OURBANGLANEWS DESK।

উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায় একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইথিওপিয়া। এই দেশের একটি পবিত্র শহরের নাম ‘আকসুম’। এই শহর খ্রিস্টান অধ্যুষিত।

দেশটির খ্রিস্টানদের ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই শহরটি পবিত্র স্থান। তাই এই শহরে কোনো মসজিদ, নির্মাণ করা হয়নি।

আর কাউকে মসজিদ, নির্মাণ করতেও দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলের মুসলিম বাসিন্দারা উচ্চস্বরে আযানও দিতে পারেন না।

কয়েকটি মুসলিম গোষ্ঠী আকসুম শহরটিতে একটি মসজিদ নির্মাণ এর জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আর সেই সাথে প্রস্তাব রাখা হয় এই এলাকায়, একটি মসজিদ নির্মাণ করা হোক। কিন্তু খ্রিস্টান নেতারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেন।

তারা জানান, তারা মারা গেলেও এই এলাকায় কোনো মসজিদ, নির্মাণ করতে দেবেন না।

আকসুমের খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা গডিফা মেহেরা জানান, আকসুম আমাদের কাছে মক্কা।

তিনি বিশ্বাস করেন, মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোতে, যেমন খ্রিস্টানদের কোনো ধর্মীয় স্থাপনা থাকতে পারে না,

তেমনি মুসলিমদের কোনো ধর্মীয় স্থাপনা আকসুমে থাকতে পারে না।

মেহেরা আরো জানান, ‘আকসুম হল আমাদের কাছে একটি পবিত্র স্থান। এটি হল আমাদের কাছে আশ্রম’।

গডিফা মেহেরা বলেন, ‘আকসুমে যদি কেউ মসজিদ নির্মাণ করতে আসে তাহলে আমরা মারা যাব।

আর এটার অনুমতি কখনো দেওয়া হবে না। আমরা যতোদিন বেঁচে থাকবো ততোদিন এটা হতে দেব না’।

এই অঞ্চলটিতে ৯০ শতাংশ খ্রিস্টান এ ১০ শতাংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা বসবাস করেন।

অঞ্চলটির মুসলিমরা আকসুমে মসজিদ নির্মাণ করা এবং উচ্চস্বরে আল্লাহর কাছে, প্রার্থনা করতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

তারা ‘জাস্টিক ফর আকসুম মুসলিম’ এর ব্যানারে আন্দোলন চালাচ্ছেন।

ইসলাম ধর্মাবলম্বী আজিজ মোহাম্মাদ ২০ বছর ধরে আকসুমে বসবাস করেন। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের আকাশের নিচে নামাজ আদায় করতে হয়। কারণ এই অঞ্চলটিতে কোনো মসজিদ নেই’।

আব্দুল মোহাম্মাদ আলি আরও জানান, ‘শুক্রবারে আমরা যদি উচ্চস্বরে প্রার্থনা করি তাহলে খ্রিস্টানরা আমাদেরকে বলে, আমরা তাদের পবিত্র স্থানকে অপমান করছি’।

খ্রিস্টান এবং মুসলিমরা এক সঙ্গে এই অঞ্চলটিতে বসবাস করেন। সবচেয়ে বেশি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বসবাস করে।

মুসলমানদের প্রার্থনা করতে খ্রিস্টানরা নিষেধ করে না। কিন্তু উচ্চস্বরে প্রার্থনা অথবা আজান দিতে দেয় না।

সেই সঙ্গে দেয়া হয় না কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্টান গড়ে তুলতে।

আকসুমের প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি।

তবে তারা জানিয়েছেন, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা এই অঞ্চলটিতে শান্তিতে বসবাস করছেন।