আম্পানের প্রভাবে আমের ব্যাপক ক্ষতি

0
254

আম্পানের প্রভাবে আমের ব্যাপক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর প্রভাবে নওগাঁ জেলায় আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আম চাষিরা বলছেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে আম বাগানের প্রায় ৫০ শতাংশ আম ঝরে গেছে।’

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, ‘তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেনি।’ আজ (বৃ্হস্পতিবার) সকালে জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাগানের মাটিতে ঝরে পড়া আম পড়ে আছে। অধিকাংশ আম ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। কোন কোন বাগানে আমের গাছ উপড়ে গেছে। অসংখ্য গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত একটা থেকে দুইটার মধ্যে ‘আম্পান’ নওগাঁ জেলায় আঘাত হানে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার।

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ‘জেলায় এ বছর ৪ হাজার ৮০০ আম চাষির প্রায় ৭ হাজার বাগানের, ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৫ মেট্রিক টন। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ৮৫ হাজার আম ঝরে পড়েছে। ভরা মৌসুমে আমের দাম ৪০ টাকা কেজি ধরলে এর দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা।’

জেলার ১১ টি উপজেলার মধ্যে ৬০ ভাগের বেশি আম উৎপাদন হয় পোরশা ও সাপাহার উপজেলায়। সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি সাইফুর রহমান বলেন, ‘৪০ বিঘা জমির ওপর তার চারটি বাগান রয়েছে। ঝড়ে বাগানের তিন হাজার গাছের অর্ধেক আম পড়ে গেছে। বেশ কিছু গাছ ঝড়ে পড়ে গেছে। ঝরে পড়া আম ৩-৪ টাকা কেজির বেশি বিক্রি হবে না। যেসব আম ফেটে গেছে, সেসব কেউ কিনবে না।’

সাপাহার উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘সাপাহারে এবার ৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এমনিতেই এবার বাগানগুলোতে আম কম ধরেছিল। তারওপর এই ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো নিরূপণ করা যায়নি, তবে কিছু বাগান পরিদর্শন করে ধারণা হচ্ছে, আম গাছের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ আম পড়ে গেছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানে আম চাষিদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে