আবরারকে চাপা দেয়া বাস চালাচ্ছিলেন কন্ডাক্টর।

0
255

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

গত ১৯ মার্চ চালক সিরাজুল ইসলাম ভোর পাঁচটা ৪৫ মিনিটে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস নিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে রওনা দেন ।

গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর বাঁশতলা অতিক্রম কিছুক্ষণ পর। অতিক্রমের সময় তাঁর বাস চাপা দেয় সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে। মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মুক্তা গুরুতর জখম হন।

সিরাজুলকে এ ঘটনার পর সুপ্রভাত বাসের যাত্রীরা আটক করে হস্তান্তর করেন ট্রাফিক পুলিশের কাছে। জনতা হয়ে ওঠেন উত্তেজিত।

বাসের কন্ডাক্টর ইয়াসিন এ পরিস্থিতিতে বাসটি দ্রুত চালিয়ে নিয়ে যান চালকের আসনে বসে। বাসটি বেপরোয়া গতিতে ছুটতে ছুটতে বসুন্ধরার নদ্দা এলাকায় চলে আসে।

সেখানে আবার আবরার আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউপি) ছাত্রকে চাপা দেয় ওই বাসটিই।

আবরার নিহত হন। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) হত্যাকাণ্ডের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা জানতে পারে ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারের পর।

ডিবি গত ২৬ মার্চ মঙ্গলবার ইয়াসিন আরাফাত, আবরারকে চাপা দেওয়া সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানার একটি ইটভাটা থেকে।

ইব্রাহিম, চালকের সহকারীকে ২৭ মার্চ বুধবার সকাল ৭টায় ইয়াসিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে।

এ তথ্য জানানো হয় কারওয়ান বাজারে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে। এ তথ্য জানান, আবদুল বাতেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি)।

আবদুল বাতেন বলেছেন, সুপ্রভাত বাসের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে, সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দেওয়ার পর আটক করে দেয় ট্রাফিক পুলিশের কাছে।

ইয়াসিন আরাফাত, বাসের কন্ডাকটর এ সময় ঘটনা সম্পর্কে বাসের মালিককে জানান। মালিককে তিনি বলেন, বাসটি উত্তজিত জনতা জ্বালিয়ে দিতে পারে।

মালিক এ কথা শুনে ইয়াসিন আরাফাতকে বলেন ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত বাস চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা । ইয়াসিন এরপর বেপরোয়া গতিতে বাসটি নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় আবরারকে চাপা দেয় বাসটি।

আবদুল বাতেন বলেছেন, ‘ইয়াসিনকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার পর আমরা জড়িত ব্যক্তিদের নামে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেব।’

ডিবি, মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের ছাত্রী সসিনথিয়ার বিষয়ে জানায়, সে এখন কিছুটা সুস্থ।

বিইউপির ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী গত ১৯ মার্চ সকালে নিহত হন সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় রাজধানীর বসুন্ধরায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নদ্দা এলাকায়।

গুলশান থানায় ওই দিন রাতে মামলা হয়। পুলিশ ঘটনার পর গ্রেপ্তার করে সিরাজুল ইসলামকে। সিরাজুলের লাইসেন্স ছিল না ভারী যান চালানোর।

ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, ‘তিনি হালকা যান চালানোর লাইসেন্স নিয়ে চালাচ্ছিলেন বাসের মতো ভারী যান।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ফেটে পড়েন বিক্ষোভে। তাঁরা বসুন্ধরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে ও আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির গ্রেপ্তারের দাবিতে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে