আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এক ব্যক্তির হাত কেটে বিচ্ছিন্ন,খুজছে পুলিশ।

0
217

OURBANGLANEWS DESK।

নাটোরের গুরুদাসপুরে মোমিন আলী সরদার (৩৭) নামের এক ব্যক্তির ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন গ্রাম্য দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন।

ওই বিচ্ছিন্ন হাতটি লুকিয়ে ফেলা হয়েছে আলামত আড়াল করতে। পুলিশ এখন কেটে ফেলা হাতটি খুঁজছে।

০৭ এপ্রিল রোববার উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হরদমা গ্রামের নেংড়ার মোড় এলাকায় সালে সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ওই গ্রামে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে নতুন করে সহিংসতা এড়াতে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি বিচ্ছিন্ন হওয়া হাত কিংবা কাউকে আটক করতে পারেনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

জানা গেছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে, মোমিন আলী সরদার ও মোজাম আলীর (৩৬) মধ্যে চলনবিল অধ্যুষিত ওই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

উভয় পক্ষের মধ্যে তিন-চার বছর ধরে চলে আসছে হানাহানি। প্রায় এক মাস আগে মোমিন আলী তাঁর সমর্থকদের নিয়ে প্রতিপক্ষ মোজাম আলীর একটি পা ও দুই হাত কুপিয়ে জখম করে।

বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মোজাম আলী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলা হলেও এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হননি।

বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক স্থানীয় লোকজনের পক্ষ থেকে বলেন, রোববার সকালে আগের ঘটনার জের ধরে রাসেল (২৫)

মোজাম আলীর ভাতিজা শরীফুল ইসলাম (৩০), টগর আলী (৩৫), জমিন উদ্দিনসহ (৩২) তাঁর অনুগত কমপক্ষে সাত থেকে দশ জন আক্রমণ চালান মোমিনের ওপর।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক কুপিয়ে।

এ ছাড়া কুপিয়ে জখম করা হয় মোমিন আলীর সারা শরীর। পরে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। যাওয়ার সময় তাঁরা নিয়ে যান বিচ্ছিন্ন হওয়া হাতটিও।

মো. রবিউল করিম গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক বলেন, মোমিন আলীকে সকাল আটটার দিকে জরুরি বিভাগে আনা হয় গুরুতর আহত অবস্থায়।

তাঁর হাতটি বিচ্ছিন্ন ছিল ডান হাতের কনুইয়ের নিচ থেকে। এ ছাড়া জখমের চিহ্ন ছিল বাঁ পা, মাথাসহ শরীরজুড়ে।

মোমিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় অবস্থা বেগতিক দেখে।

অভিযোগ করেন মোমিনের অনুগত আবু হানিফ, মোমিন রোববার সকালে পাঁচ-সাতজন শ্রমিককে নিয়ে খেতে যাচ্ছিলেন খেত থেকে ভুট্টা ওঠানোর জন্য।

নেংড়ার মোড় স্থানে পথে প্রতিপক্ষ রাসেল তাঁর অনুগত শরীফুল ইসলাম, টগর আলী, জমিন উদ্দিনকে নিয়ে তাঁরা পৌঁছামাত্রই মোমিনের ওপর

আক্রমণ চালান ধারালো অস্ত্র দিয়ে। এ সময় মোমিনের সঙ্গে থাকা অন্যরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান।

দেখা গেছে রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে, পুলিশের গাড়ি রয়েছে গ্রামের সড়কের ওপর। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন পুলিশ সদস্য।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। কেউ ওই ঘটনায় মুখ খুলতে চাইছেন না ঝামেলা এড়াতে।

তবে রাজিয়া বেগম, প্রধান অভিযুক্ত রাসেলের মায়ের দাবি, তাঁর দেবর মোজাম আলীর হাত-পা মোমিন আলী অন্যায়ভাবে ভেঙে দিয়েছিলেন।

পরিবার পথে বসেছে তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে। তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি মামলা করেও। তাঁর ছেলেরা ক্ষোভ থেকে আক্রমণ করতে পারেন মোমিনের ওপর।

তবে তাঁদের জানা নেই ঘটনাস্থলে কী ঘটেছে। রাজিয়া বেগম জানিয়েছেন সকাল থেকেই রাসেল বাড়িতে নেই।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোমিনের চাচাতো ভাই বেলাল হোসেনের দাবি, আগে বোঝা যায়নি তাঁর ভাইয়ের ওপর গ্রাম্য বিরোধের কারণে এমন হামলা হবে।

তিনি জানিয়েছেন মামলা করতে দেরি হবে বলে মোমিনকে নিয়ে রাজশাহী থাকার কারণে। বেলাল দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে।

মো. মোজাহারুল ইসলাম গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে।

একই সঙ্গে পুলিশ চেষ্টা করছে মোমিনের বিচ্ছিন্ন হাতটি উদ্ধারে। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি মোমিনের পক্ষ থেকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে