আজ পুরো নিউজিল্যান্ড ছিল ২ মিনিট নিরব।

0
194

OURBANGLANEWS DESK।

নিউজিল্যান্ড শহরের ক্রাইস্টচার্চের গত শুক্রবার দুই মসজিদে হামলা চালায় ব্রেনটন। সেই ঘটনায় নিহত হয় ৫০ জন।

আজ শুক্রবার দেশটির সাধারণ ব্যক্তিরা সেই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে পালন করে দুই মিনিটের নীরবতা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা ইস্টার্ন সহ দেশটির হাজারো মানুষ শোক প্রকাশ করতে সমবেত হয়েছিল হামলার স্থান আল নুর মসজিদের কাছে হুগলি পার্কে।

দেশটির রাষ্টীয় রেডিও, টেলিভিশনে প্রচারিত হয় আজান। তারপর দেশটির সবাই একসাথে নীরবতা পালন করে।

নিউজিল্যান্ডের অন্য ধর্মের নারীরাও মুসলিম নারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে হিজাব করেন।

গত শুক্রবার ঠিক এক সপ্তাহ আগে বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে, অস্ট্রেলিয় যুবক ব্রেনটন টারান্ট (২৮) আধা স্বয়ক্রিয় বন্দুক নিয়ে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা করে।

এর কিছুক্ষণ পরে হামলা করেন লীনউড মসজিদে। দুটি হামলায় নিহত হয় ৫০ জন এবং ৫০ জন আহত হয়। হত্যার অভিযোগে কারাবন্দী আছে ব্রেন্টটন।

বৃহস্পতিবার গতকাল দেশটির সব ধরনের আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহর্ডান নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

বিবিসি খবরের অনলাইনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় দেড়টায় রাষ্টীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে জুমার নামাজের আজান প্রচার করা হয়। এরপর দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।

আজ জুমার নামাজের আগে আল নুর মসজিদের কাছে হুগলি পার্কে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে জুমার নামাজের ঠিক আগে পৌছায় আল নুর মসজিদে।

ইমাম গামীল ফৌদা ইমামতি করেন জুমার নামাজের। তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।

আজ একই জায়গা থেকে তাকিয়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি, আমরা একসঙ্গে আছি। আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে দেব না কাউকে।’

কথা রয়েছে দেশটিতে অনেক মসজিদ খুখুলার। মানববন্ধন করার আগে ও কথা রয়েছে মসজিদের বাইরে।

প্রধানমন্ত্রী মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে শোকাহত, আমরা এক।’

দেশটির মানুষদের নীরবতা পালন করতে আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “হামলার পর থেকে অনেক নিউজিল্যান্ডবাসী চেয়েছেন দিনটিকে স্মরণ করতে এবং চেয়েছেন মসজিদে ফিরে আসা

মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে। যে যেভাবে ঠিক মনে করেন সেভাবে পালন করবেন। বাড়ি, কর্মস্থলে, স্কুলে যে যেভাবে পারবেন।”

সরকারি কর্তৃপক্ষ গতকাল রাতেই নামাজের জন্য আল নুর মসজিদ প্রস্তুত করেন এবং আজ একসাথে নিহত ব্যক্তিদের দিনের ব্যবস্থা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে