হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিব

0
348

মাহিন,OURBANGLANEWS DESK।

আজ ১৭ মার্চ, ২০১৯ রবিবার। ১৯২০ সালের এই দিনটিতে গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাঙ্গালী জাতির আর্দশ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দিনটি ছিল বুধবার।

শেখ মুজিবের পিতা শেখ লুৎফর রহমান যিনি পেশায় ছিলেন গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার এবং মাতা সায়েরা খাতুন। চার বোন বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন লাগলি

এবং ছোট ভাই শেখ আবু নাসের। চার বোন ও দুই ভাইয়ের পরিবারে তিনি ছিলেন তৃতীয়। শেখ মুজিবর রহমানের সহর্ধমিনী শেখ ফাজিলাতুননেসা মুজিব। তাদের পাঁচ সন্তান।

দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং সর্বকনিষ্ঠ শেখ রাসেল।

শেখ মুজিব ছোট বেলা থেকেই ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী। তিনি তার সমবয়সী বন্ধুদের মতো ছিলেন না। ছোট বেলা থেকেই অভাবী মানুষদের নিয়ে ভাবতেন। খুব সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ না করলেও নিজের সবটুকু দিয়ে সাহায্য করেছেন অভাবী, দুঃখী মানুষদের।

তার আত্মত্যাগের কথা কারো অজানা নয়। খুব ছোট বেলা থেকেই তার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রতিভা পরিলক্ষিত হয়। মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় স্কুলের ছাদ সংস্কারের দাবীতে একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যান শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সহরোয়ার্দীর মতো নেতাদের সামনে।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন একজন সফল নেতা। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখান। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসক্রোস ময়দানে লক্ষাধিক মানুষের সামনে দেয়া তার অগ্নিঝরা ভাষণ বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ। সেই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙ্গালী জাতি কে মুক্তি যুদ্ধের প্রেরণা যোগায়।

তার রক্ত গরম করা ভাষণের কিছু অংশ: ‘মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছারব ইনশাআল্লাহ।

এবারের সংগ্রাম আমার মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।‘ তিনি ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

শেখ মুজিবের শিক্ষা জীবন ও জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটে গোপালগঞ্জ মহাকুমায়। তিনি ৭বছর বয়সে ১৯২৭ সালে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু করেন।

অতঃপর নয় বছর বয়সে ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং এখানে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। ১৯৩৪ সালে চোখের জটিল সমস্যার কারনে তাকে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয়। চোখের সার্জারী করে সেরে উঠতে দীর্ঘ চার বছর সময় লাগে।

এরপর পুনরায় বিদ্যালয়ে ফেরত আসেন। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। তিনি ১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারি বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৪৪ সালে ইসলামিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ. পাশ করেন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারনে তিনি আইন বিষয়ের শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারেনি।

১৯৪০ সালে যোগ দেন নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে। সেখানে তিনি নির্বাচিত হন এক বছর মেয়াদে।

১৯৪৩ সালে বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগদানের মাধ্যমে মুসলিম নেতা হুসেইন শহীদ সহোরোয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন। একই বছর বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

১৯৪৪ সালে ‘ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন’ এর সেক্রেটারি মনোনীত হন। ১৯৪৮ সালের ৪টা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন।

শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকে। রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার কারনে তাকে অনেক বার কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

পাকিস্তান সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারনে তাকে কারাভোগ করতে হয়। তিনি রাজনীতি জীবনে অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে বিভিন্ন পদে দ্বায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার সময় তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন একজন সফল ব্যক্তিত্ব। তার রাজনৈতিক জীবন সহজ ছিল না কিন্তু তিনি কখনই দমে যায়নি।

১৯৩৮ সালে আঠারো বছর বয়সে ফজিলাতুন্নেসাকে বিবাহ করেন। তার তিন পুত্রের জৈষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ও দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

শেখ কামালের জন্ম ৫ আগস্ট ১৯৪৯ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ভাই-বোনেদের মধ্যে দ্বিতীয় শেখ কামাল মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ক্রীড়াবিদসুলতাননা খুকিকে বিয়ে করেন। শেখ জামাল পেশায় ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন। জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।

তিনি একজন ভালো ক্রিকেটার ও ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, শনিবার ধানমন্ডি ৩২ এর নিজ বাসভবনে ৫৫ বছর বয়সে এই মহান নেতা স্বপরিবারে আততায়ীর হাতে নিহত হন। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যায় দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। আততায়ীর হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিশু রাসেল। তাকে নিশংস ভাবে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে দেশ হারায় এক আর্দশবান নেতা। যার ক্ষতিপূরণ হয়ত কিছুতেই হবে না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ১৫ আগস্ট কে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। প্রতিবছর এই দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বাঙ্গালী জাতি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে