আজ কবিগুরুর ১৫৯ তম জন্ম জয়ন্তী

0
184

আজ কবিগুরুর ১৫৯ তম জন্ম জয়ন্তী

মাহিন আরাফাত, কালের সমাচারঃ

আজ বাংলা পঁচিশে বৈশাখ ১৪২৭। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্ম জয়ন্তী আজ।

বাংলাদেশ এবং ভারতের জাতীয় সংগীতের রচিয়তা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন।

তবে করোনা সংকটের কারণে এ বছরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে কোনো অনুষ্ঠান থাকছে না। টেলিভিশন, রেডিও, দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজপোর্টালগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী ও কর্মের ওপর বিভিন্ন অনুষ্ঠান, লেখা প্রকাশ করছে।

১২৬৮ বঙ্গাব্দের পঁচিশে বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকো বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা ছিলেন সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ছিলেন কলকাতার বিখ্যাত জমিদার ও ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে মাকে হারান। ১৫ সন্তানের জনক ব্রাহ্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কেও তিনি খুব একটা কাছে পাননি। শৈশবে তিনি কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নরম্যাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে লেখাপড়া করেন।

ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হলেও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছে ভৃত্যদের অনুশাসনে। তিনি বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে থাকতেন। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এই মুক্ত বিহঙ্গজীবনই একদিন তাকে ঘরে থেকে বের করে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।

রবীন্দ্রনাথ ৮ বছর বয়সে লিখতে শুরু করেন। আটপৌরে বাঙালির মতো তারও শুরু কবিতা দিয়েই হয়েছিল এবং সেই কবিতাই তাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে। তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বকবি।

তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশে ইংল্যান্ড যান। সেখানে ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু গৃহের টান উপেক্ষা করতে পারেননি। সেখানে মাত্র দেড় বছর কাটিয়ে ১৮৮০ সালে কোনো ডিগ্রি ছাড়াই দেশে ফিরে আসেন।
১৮৮৩ সালে পারিবারিক রেওয়াজ মেনে ভবতারিণী দেবীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয় মৃণালিনী দেবী।

রবীন্দ্রনাথ সন্ন্যাস জীবনের ঘোরবিরোধী ছিলেন সে কারণেই হয়তো সংসার সাধনার মধ্যেই তার সাহিত্যচর্চা চলতে থাকে। পিতার আদেশে ১৮৯১ সাল থেকে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উড়িষ্যার জমিদারির তদারকি শুরু করেন। তিনি প্রায় ১০ বছর পূর্ববাংলায় ছিলেন। তিনি এ সময় জমিদারির কাজে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়ি, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কাচারিবাড়ি ও নওগাঁর পতিসরে অবস্থান করেন। রবীন্দ্রনাথ ১৯০১ সালে পূর্ববাংলা ছেড়ে সপরিবারে বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকন্ঠে শান্তিনিকেতনে চলে আসেন।
রবীন্দ্রনাথের ৫২ টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮ টি নাটক, ১৩ টি উপন্যাস এবং ৩৬ টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। তার চিঠিপত্র, ভ্রমণ কাহিনীর সংকলনও বাংলা সাহিত্যের আকর গ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত। একজন চিত্রশিল্পী হিসেবেও তাঁর অবদান কম নয়। সুর স্রষ্টা, ব্যকরণবিদ, শিল্প সমালোচক, দার্শনিক, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ হিসেবেও তিনি সমানভাবে পরিচিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষার পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সাহিত্যের নোবেল ছিনিয়ে এনেছেন। বাংলা ভাষার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে