অসহায় বাবা রাস্তায়, মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে।

0
181

OURBANGLANEWS DESK।

মফিজুল হক ষাটোর্ধ্ব এক বাবা। প্রয়াত মেয়ের ছবিসংবলিত একটি ফেস্টুন হাতে।

‘আমার একমাত্র সন্তান কামরুন নাহার তুর্ণা হত্যার বিচার চাই এবং আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই’ তাতে লেখা।

বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে একমাত্র মেয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন একাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামে মফিজুল হকের বাড়ি। পুলিশ ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা কামরুন নাহারের লাশ

উদ্ধার করে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় চরচারতলায় শ্বশুরবাড়ির পরিত্যক্ত পানির ট্যাংক থেকে। ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল মফিজুল হক এই ঘটনায় বাদী হয়ে কামরুন নাহারের স্বামী আরিফুল হক ওরফে রনিকে আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শফিউল আজমের আদালতে।

মফিজুলের অভিযোগ, তাঁকে এখন চাপ দেওয়া হচ্ছে এই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। আসামিপক্ষের লোকজন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন আপস না করলে।

মফিজুল হক বলেন, ‘কামরুন নাহারকে ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে আমার ছোট ভাইয়ের ছেলে আরিফুল হকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

তাদের একটি কন্যাসন্তান হয়। বিয়ের পর থেকে ২০১৬ সালে আরিফুলের মুঠোফোনে একটি আপত্তিকর ছবি নিয়ে কামরুন নাহারের ঝগড়া হয়।

পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানও করা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে ঝগড়া চলতে থাকে। সেই ঝগড়ার জের ধরেই ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে শ্বাসরোধে কামরুন নাহারকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পরিত্যক্ত ট্যাংকে রেখে দেয় আরিফুল।’

কামরুন নাহারের পরিবারের অভিযোগ আরিফুল এই হত্যাকাণ্ড সম্পত্তির লোভে ঘটিয়ে থাকতে পারেন।

এস এম কামরুজ্জামান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন আশুগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, কামরুন নাহার খুন হন দ্বিতীয় সন্তান রাখা–না রাখা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে।

বালিশচাপা দিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বাড়ির পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকে ফেলে দেন নিজেই।

আরিফুলের বাবা আমিরুল হক বলেন, ‘কামরুন নাহারের বাবা আমার ভাই। তাঁকে কোনো ধরনের হুমকি বা ভয় দেখানো হয়নি। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘হুমকির ঘটনায় মফিজুল হক থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি করেছেন কি না আমার জানা নেই।

যদি তিনি অভিযোগ দায়ের করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে