অন্তঃসত্ত্বা হাতিকে আনারসের ভেতর বিস্ফোরক খাইয়ে হত্যা

0
86

অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি নদীতে দাঁড়িয়ে থেকে মৃত্যুর অপেক্ষা করছিল

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের কেরালা রাজ্যে একটি অন্তঃসত্ত্বা হাতির মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আনারসের ভেতর বিস্ফোরক ঢুকিয়ে হাতিটি কে খাওয়ানো হয়েছিল।

এর আগে পশুদের প্রতি নানা সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকলেও হাতি কে বিস্ফোরক খাওয়ানোর ঘটনা স্থানীয়দের স্তম্ভিত করেছে।

বন বিভাগের র‍্যাপিড রেসপন্স টিমের একজন ফরেস্ট অফিসার মোহন কৃষ্ণান। তিনি ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করার পর সাধারণ মানুষদের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পরে।

তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আহত হওয়ার পরও হাতিটি কাউকে আঘাত না করে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়’।

তিনি ফেসবুক পোস্টে আরো উল্লেখ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়া ছবিগুলোতে হাতিটির কষ্টের প্রতিফলন হয় না।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি আনুমানিক ১৪-১৫ বছর বয়সী ছিল।

হাতিটি আহত হওয়ার পর প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণার কারণে টানা তিনদিন ভেলিয়ার নদীতে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময়ে হাতিটিকে মেডিকেল সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হলে ও তাকে পানি থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।

হাতিটির মুখ ও শুঁড় তিনদিন ধরে পানির নীচেই ছিল।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা গত ২৫ শে মে প্রথমবার স্থানীয় একটি খামারের পাশে হাতিটিকে লক্ষ্য করে।

পালাক্কাড় এলাকার সাইলেন্ট ভ্যালি নাশনাল পার্কের বন্যপ্রাণী বিভাগের ওয়ার্ডেন স্যামুয়েল ওয়াচা এ বিষয়ে বলেন, “হাতিটি কোথায় আহত হয়েছিল তা আমরা জানতে পারিনি। পানির নীচে থেকে সে পানি খাচ্ছিল। যা সম্ভবত তাকে কিছুটা আরাম দিচ্ছিল। হাতিটির চোয়ালের দুই পাশই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার দাঁতও ভেঙে গেছে”।

পাল্লাকাড়ের মান্নারকাড় অঞ্চলের বন বিভাগ কর্মকর্তা সুনিল কুমার জানান, ‘হাতিটি আহত হয়েছে বুঝতে পারার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা হাতিটিকে নদী থেকে সরিয়ে এনে তার চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হাতিটিকে কিছুতেই নদী থেকে সরানো যায়নি’।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা পশু চিকিৎসকদের দিয়ে হাতিটির অপারেশন করানোর চেষ্টাও করেছিল।

অবশেষে, ২৭ শে মে নদীতে দাড়িয়ে থাকা অবস্থাতে হাতিটি মারা যায়। হাতিটিরর মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হলে জানা যায়, হাতিটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল।
স্যামুয়েল ওয়াচা জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য চেষ্টা চলছে।

(সূত্রঃ বিবিসি বাংলা)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে