অগ্নিকান্ড রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা।

0
350

OURBANGLANEWS DESK।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস পরিদর্শন করে বহুতল ভবনটি অগ্নিকাণ্ড ও

ক্ষয়ক্ষতি রোধে উপযুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হয়ে ছাড়পত্র দেওয়া, নিয়মিত পরিদর্শন করা, প্রতিবছর নবায়নের ব্যবস্থা রাখাসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা।

প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ০১ মার্চ সোমবার এই নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রিসভা একই সঙ্গে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুনে হতাহত হওয়ার ঘটনায়।

মোহাম্মদ শফিউল আলম মন্ত্রিপরিষদ সচিব বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত জানান।

নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা, সচেতনতার জন্য ধারাবাহিকভাবে (এক থেকে তিন মাসের মধ্যে) অগ্নিনির্বাপণ মহড়া দেওয়া রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মধ্যে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগুনের চেয়েও ধোঁয়ার কারণে অনেক সময় অনেকে মারা যান শ্বাস বন্ধ হয়ে।

বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলেছেন, ধোঁয়া যাতে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তাঁর জন্য। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস অনেক সময় কাজ করতে পারে না পানির অভাবে।

এ জন্য যেখানে সম্ভব, সেখানে ব্যবস্থা করতে হবে জলাধার বা জলাশয়ের। ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে হবে ঢাকার লেকগুলোকে।

সক্ষমতা আরও বাড়ানো উচিত ফায়ার সার্ভিসের এবং যেন বাস্তবতা চিন্তা করে করা হয় ভবনের প্ল্যান, নিশ্চিত করতে হবে তা।

আরও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মধ্যে শতভাগ জরুরি নির্গমনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সব ভবনেই।

অনেক জায়গায় দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে। যেন সব সময় ফায়ার এক্সিট খোলা থাকে, অর্থাৎ তা যেন ম্যানুয়ালি খোলা যায়, ব্যবস্থা রাখা তার।

অন্তত দুটি সিঁড়ি জরুরি নির্গমনের জন্য রাখা। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল ও বিদ্যালয়গুলোয় বারান্দা রাখার।

প্রধানমন্ত্রী এ ছাড়া গুরুত্বারোপ করেছেন সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর শ ম রেজাউল করিম গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী সচিব এ বিষয়ে বলেন, তাঁদের কাজকে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা আরও উজ্জীবিত করবে।

রেজাউল করিম বলেন, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বনানীর এই আগুনের ঘটনার পর। কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।

এ ছাড়া ২৪টি উপদল (টিম) গঠন করা হয়েছে কোনো অনিয়ম আছে কি না ঢাকার বহুতল ভবনগুলো নির্মাণে, তা খতিয়ে দেখতে।

আজ থেকে তারা শুরু করেছে কাজ। তাদের প্রতিবেদন দিতে হবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে।

পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো হবে কোন কোন ভবনে অনিয়ম রয়েছে বা ভবনগুলো কী অবস্থায় আছে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।

মালিককে একটা সংক্ষিপ্ত সময় দিয়ে এরপর নিশ্চিত করতে বলা হবে, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন আছে কি না।

ফৌজদারি ব্যবস্থাসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এরপরও নিয়ম না মানলে।

আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এবং গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৯-এর খসড়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে